মাটির নিচে ‘গর্জনের শব্দ’ শুনতে পেল দিল্লিবাসী
কিন্তু কেন এই শব্দ? ভূমিকম্পে শব্দ হওয়া কি স্বাভাবিক? জানা গেছে, সোমবারের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল দিল্লিতেই। দক্ষিণ দিল্লির ধৌলাকুঁয়ায় দুর্গাবাই দেশমুখ কলেজ অব স্পেশ্যাল এডুকেশনের জমির ঠিক নিচে ভূমিকম্প হয়েছে। মাটি থেকে তার গভীরতা মাত্র পাঁচ কিলোমিটার।
আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময়ে ভূমি কাঁপে। এর ফলে ছোট ছোট ভূকম্পীয় তরঙ্গ তৈরি হয়। এগুলো মাটির ওপরে হাওয়ার সংস্পর্শে এলে শব্দতরঙ্গ তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, ভূমিকম্পের কেন্দ্র যত বেশি অগভীর হবে, তার শক্তি মাটির ওপরে ধাক্কা দেবে তত বেশি। উচ্চ কম্পাঙ্কের ভূকম্পীয় তরঙ্গ যদি মাটির নীচে তৈরি হয়, তবে তার শব্দ উপর থেকেও শোনা যেতে পারে। জমি শক্ত হলে গর্জন-শব্দ বেশি হতে পারে। দিল্লির ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটেছে বলে মত অনেকের।
তবে দিল্লির বাসিন্দারা অনেকেই মানতে পারছেন না, রিখটার স্কেলে সোমবারের ভূমিকম্পের মাত্রা মাত্র ৪। উৎসস্থল অগভীর হওয়ার কারণে মাত্র ৪ মাত্রাতেই এত কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভোর ৫টা ৩৬ মিনিটে বেশ কয়েক সেকেন্ড কম্পন স্থায়ী হয়। সোমবার দিল্লি ছাড়াও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে আগ্রা, হরিয়ানাসহ বিভিন্ন জায়গায়।
এ ঘটনার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লি এবং আশেপাশের এলাকার বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং নিরাপত্তা সতর্কতা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, দিল্লি এবং আশেপাশের এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে। সবাইকে শান্ত থাকার এবং নিরাপত্তা সতর্কতা মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে, সম্ভাব্য আফটারশকের জন্য সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করছি। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে।
Post a Comment